An open letter to the vice-chancellors of universities in Bangladesh

বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ,

আমি এমন এক সময়ে আপনাদের কাছে লিখছি, যখন আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এবং এর শিক্ষার্থীরা এক বিরাট সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

আপনারা নিশ্চয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সৃষ্ট সংকট সম্পর্কে অবগত আছেন। আমি আপনাদের প্রশ্ন করতে চাই, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী একজন উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, এমনকি এই কারণে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিতেও কার্পণ্য করে না, তখন কি সেই উপাচার্যের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার মতো নৈতিক অবস্থান বজায় থাকে?   এছাড়াও নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শারীরিক সহিংসতা ব্যবহারের সুস্পষ্ট অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

একজন শিক্ষকের যা করার কথা, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কি তার সম্পূর্ণ বিপরীত কাজটাই করছেন না? বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আদর্শের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও আপসহীন হতে শেখানোর কথা ছিল আমাদের। অথচ সেই কাজটি করতে গিয়েই নিজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হতে হলো। আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখানোর কথা ছিল, জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান তালে এগিয়ে যাবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন তুলনামূলক কম আধিপত্যশীল এবং ন্যায় ভিত্তিক একটি সমাজে বেড়ে উঠতে পারে, সেই স্বপ্ন আমাদের দেখানোর কথা ছিল। অথচ উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কর্মকাণ্ড এর সম্পূর্ণ বিপরীত!

আপনারা ভাল করেই জানেন, যখন একজন ব্যক্তির কোনো একটি পদে বসার যোগ্যতা বা নৈতিক শক্তি থাকে না, কিন্তু তিনি পেশীশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জোর করে সেটি দখল করেন, তখন আসলে তিনি সেই পদটিকেই অসম্মান করেন। আজ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এই কাজটিই করছেন, উপাচার্য পদটিকে অসম্মান করে চলেছেন তিনি। এমন একটি পদকে তিনি অসম্মান করছেন, যেটি সকল বাংলাদেশির কাছে অত্যন্ত মর্যাদার ও সম্মানের।

আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে উপাচার্য পদের অসম্মান করতে দেবেন না। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারা শিক্ষকের প্রকৃত চেতনাকে ধরে রাখুন। যে চেতনা শিক্ষার্থীদের সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়, বিপদে সুরক্ষা দেয়, তাদের ন্যায্য দাবির সাথে সংহতি জানায়- সেটিকেই আপনারা তুলে ধরুন। আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, বাবা-মায়ের পরে আপনারা শিক্ষকরাই কিন্তু একমাত্র ব্যক্তি, যারা আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

একজন শিক্ষকের অনুরোধেই অবশেষে ১৬৩ ঘন্টা পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙেছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণের ব্যাপারে একজন শিক্ষকের দেওয়া কথার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন।

তাদের বিশ্বাস যেন না ভাঙে— আপনাদেরকেই এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

 

ইতি,

তাবিথ আউয়াল

copyright 2022 by tabithawal.com